আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আর্জেন্টিনার পিছু ছাড়ছে না 'বিতর্ক', ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ডস ব্যানার দেখিয়ে শাস্তির শঙ্কায় মেসিরা
- Author, আদ্বৈধ রাজন
- Role, বিবিসি স্পোর্ট সাংবাদিক
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার দেখানোয় মেসিদের বিরুদ্ধে ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
আটলান্টার ওই ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুটি গোল করে থমাস টুখেলের দলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ভাষায় লেখা একটি ব্যানার হাতে নিয়ে উদযাপন করেন, যার অর্থ "ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার"।
দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে এখনো ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূল থেকে ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দুই দেশ যুদ্ধে জড়িয়েছিল।
৭৪ দিনব্যাপী ওই সংঘাতে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসদস্য নিহত হন, দ্বীপপুঞ্জের তিনজন বাসিন্দাও মারা যান।
২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই বার্তা লেখা ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছিল, ওই পদক্ষেপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলের অসদাচরণ সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
বুধবারের জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিসারুয়েল এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, "এটি কেবল আরেকটি ম্যাচ ছিল না"; ওই পোস্টে আর্জেন্টিনার সেনাদের একটি ভিডিও-ও যুক্ত ছিল।
"ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার," আরেকটি পোস্টে লিখেছেন ভিসারুয়েল, "তারা এগুলো স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতে নিষেধ করেছে, কিন্তু তারা ভুলে গেছে যে আমরা এগুলো আমাদের রক্তে এবং হৃদয়ে বহন করি"।
ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, এই সেমিফাইনাল ছিল "আগ্রাসনকারীদের তাদের জায়গা দেখিয়ে দেওয়ার" বিষয়।
শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ডস এবং আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসিকে উল্লেখ করে জয়সূচক স্লোগান দিয়েছিলেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:
তবে সেমিফাইনালের আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, তিনি ফুটবল ও রাজনীতিকে "একসঙ্গে মেলাতে যাচ্ছেন না"।
স্কালোনি বলেছিলেন, "বাস্তবতা হলো এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। আমি বিষয়গুলো একসঙ্গে মেলাতে পারি না, বিশেষ করে বহু বছর আগে যা ঘটেছে তার প্রতি সম্মান দেখানোর কারণে।"
"এটি আমাদের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত দুঃখজনক সময় ছিল, এবং বাস্তবতা হলো এ বিষয়ে আমাদের করার মতো খুব বেশি কিছু নেই।"
"বিশ্বের অন্য জায়গাতেও নানা ঘটনা ঘটছে, এবং আমরা যুদ্ধের অস্তিত্বের সমালোচনা করি। অবশ্যই আমরা সেই মানুষদের স্মরণ করি। কিন্তু এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আমাদের এই দুটিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।"
সেমিফাইনালটি, যেখানে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ড হেরে যায়, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক উত্তেজনার কারণে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।