জোরপূর্বক শ্রম: বাংলাদেশসহ ৬০ দেশে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের শুল্কনীতি আগে থেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে
ছবির ক্যাপশান, ট্রাম্পের শুল্কনীতি আগে থেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে
Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য রোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্য- বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইউনাইনেটড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ইউএসটিআর দাবি করেছে যে, দেশগুলো শ্রমিক ও তাদের কর্মপরিবেশের ওপর চালানো অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তারা বলছে, "যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ইউএসটিআর এর কার্যালয়ের এই প্রস্তাবটি অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল।"

ইউএসটিআর এর এই প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, জাপানসহ ৬০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

মূলত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তারা বলছে, বাণিজ্য অংশিদার দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে না পারার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, "জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য।"

"এটি এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে বাধ্য হন," বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কিংবা অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি-না এবং পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, চলতি বছরের মার্চে তার তদন্ত শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

কোন দেশে কত শুল্ক

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মার্কিন বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- এমন যুক্তি দেখিয়ে মঙ্গলবার ৬০টি দেশের আমদানিপণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্র তাদের জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।

এক্ষেত্রে কোন দেশের ওপর কত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে সেটিও ওই প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে ইউএসটিআর।

তারা জানিয়েছে, যেসব দেশ ইতোমধ্যেই জোরপূর্বক শ্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা আংশিক নিয়ম বিদ্যমান তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অন্য সব দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ব্রিটেনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে।

বাকি ৪৫টি দেশের ওপর তারা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত

এছাড়া একটি টেক্সটাইল মেকানিজমও প্রস্তাব করছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যকে হ্রাসকৃত শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেবে, যদিও এর হার বা পরিমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্স বলছেন, এমন একটি সময়ে এই ঘোষণাটি দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের ২০শে ফেব্রুয়ারি আরোপ করা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের সময়সীমা আগামী ২৪শে জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই দিনের পর থেকে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করেছে।

এদিকে ইউএসটিআর শিগগিরই চীনসহ ১৬টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত শুল্কের ক্ষেত্রে, জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানের যন্ত্রাংশ এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়ে ইউএসটিআর।