পত্রিকা: 'বন্যার পরিধি ও দুর্ভোগ বাড়ছে'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

বন্যার পরিধি ও দুর্ভোগ বাড়ছে— কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, বর্ষার টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ছয় দিনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল।

গতকাল রোববার বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে বান্দরবান ছাড়া বাকি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বান্দরবানে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল।

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে বইছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে গতকাল বিপৎসীমার ওপরে বইছিল।

সংস্থাটি আরও জানায়, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ফেনী জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিলেট অঞ্চলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ, রংপুর অঞ্চলে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি ঘটতে পারে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫১ জন এবং আহত হয়েছে ৩৯ জন।

গতকাল রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো— খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।

দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্ৰে আশ্রয় নিয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। এসব জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি সহায়তায় চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম— ঢাকায় কোটি কোটি টাকা ঢেলেও জলাবদ্ধতা

এই খবরে বলা হয়েছে, ঢাকায় শনিবার দিবাগত রাত ও গতকাল দিনের প্রথম ভাগে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে কার্যত ডুবে গিয়েছিল এ শহর। অনেক এলাকার সড়কে বিকল হয়ে পড়েছিল যানবাহন।

যারা ঘর থেকে বেরিয়েছেন, তাদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বহু মানুষের ঘরেও পানি ঢুকেছে। পরিস্থিতি এমন দাড়িয়েছিল যে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা স্থগিত ও ক্লাস বাতিল করে ছুটি দিতে বাধ্য হয়।

অবশ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগরবাসীকে শোনানো হয়েছিল ঢাকায় অতিবৃষ্টি হলেও '১৫ মিনিটের মধ্যে' পানি নেমে যাবে, আর 'জলাবদ্ধতা দেখা যাবে না'—এসব কথা। খরচ করা হয়েছিল বহু টাকা।

ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ এক দশকে ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন নালা নির্মাণ ও সংস্কার, খাল পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যান্য কাজে অন্তত ২ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা খরচ করেছে।

২০২৫ সালে কত খরচ হয়েছে, সে হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ২০২৫ সালের এপ্রিলে বলেছিলেন, চিহ্নিত ১৯টি স্থানের মধ্যে ৭টিতে জলাবদ্ধতা হতে পারে এবং পানি তিন ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি 'রাইট পারসন, রাইট টাইমে, রাইট জায়গায়' থাকার কারণে বড় জলাবদ্ধতা হয়নি বলে দাবি করেন।

অবশ্য গতকালের চিত্র এসব দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নগর–পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকায় এত বেশি বৃষ্টির কারণে জলজট হতে পারে। কিন্তু জলাবদ্ধতা হলে বুঝতে হবে, সেটা ব্যর্থতা।

সংরক্ষিত হয়নি ঢাকার ৫ ওয়াটার রিটেনশন পন্ড— বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের (ডিএমডিপি ১৯৯৫-২০১৫) পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, পাঁচটি রিটেনশন পন্ড বা স্থায়ী জলাধার প্রয়োজন। কোন কোন এলাকায় জলাধারগুলো হবে তা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছিল।

সে অনুয়ায়ী, ২০১০ সালে প্রণীত ড্যাপে কল্যাণপুর, গোড়ান চটবাড়ি, নাসিরাবাদ, বেরাইদ ও উত্তরখানে বৃহৎ এলাকাজুড়ে (২০০ থেকে ৫০০ একরের বেশি বা কাছাকাছি আয়তনের) স্থায়ী জলাধার বা রিটেনশন পন্ড সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়।

এসব রিটেনশন পন্ডের উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীর বৃষ্টির পানির আধার তৈরি করা এবং ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণ।

বর্তমান ড্যাপ ও ঢাকা ওয়াসা ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানেও এ এলাকাগুলো স্থায়ী জলাধার হিসেবেই চিহ্নিত করা আছে।

তবে, ঢাকার নদী, খাল, লেক ও অন্যান্য গণপরিসরের মতো স্থায়ী জলাধার হিসেবে চিহ্নিত এসব এলাকাও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে বেদখল হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারী ও অতিভারী বর্ষণে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়েছে এই নগরী। জলাবদ্ধতা নিরসনে কৌশলগত পরিকল্পনায় থাকা রাজধানীর পাঁচটি স্থায়ী জলাধার বা ওয়াটার রিটেনশন পন্ডও সংরক্ষিত হয়নি। অনেক জায়গায় সংরক্ষণের আগেই গত আড়াই দশকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়ে গেছে।

ফলে সামনের দিনগুলোয় ঢাকায় জলাবদ্ধতা আরো তীব্র রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রথম পাতার খবর— MBS visit could unlock Saudi billions; অর্থাৎ সৌদি যুবরাজের সফরে খুলতে পারে বিনিয়োগের নতুন দ্বার।

এই খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত সৌদি সরকারের পক্ষে তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের মৌখিক আমন্ত্রণ জানান। তারেক রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

বৈঠকে ওঠে আসে, সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের ঢাকা সফরের অগ্রগতির বিষয়ও। এছাড়া, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ শিগগিরই ঢাকা সফর করতে চান বলে জানান রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যুবরাজের সফর বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে। একই সঙ্গে তৈরি হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাংলাদেশ এখন একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ যখন নতুন পথ খুঁজছে, এমন সময়ে এই সুযোগটি এলো।

বিগত এক দশকে বাংলাদেশের বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হওয়ার তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছিল সৌদি আরব। তবে ঢাকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি বড় প্রস্তাব আটকে যায়। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব ও দুর্বল সমন্বয়ের কারণেও এগুলো এগোয়নি।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে হচ্ছে নৈশভোজ

এই খবরে বলা হয়েছে, শরিকদের সঙ্গে সৃষ্ট টানাপোড়েন দূর করতে তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ উপলক্ষ্যে শরিকদের সম্মানে ২০শে জুলাই যমুনায় নৈশভোজের আয়োজন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষমতার অংশীদারত্ব এবং নীতি নির্ধারণী বিষয়ে মিত্রদের যে ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকারে তার প্রতিফলন দেখছে না যুগপৎ আন্দোলনের শরিকেরা। ফলে শরিকদের মধ্যে একধরনের অবমূল্যায়নের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। এই ক্ষোভ প্রশমন করে জোটের ঐক্য ধরে রাখাই এখন বিএনপির মূল লক্ষ্য।

এবারের আলোচনা ও নৈশভোজের ক্ষেত্রে বিএনপি একটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে জানিয়ে সূত্রটি বলছে, যেসব শরিক দল থেকে ইতোমধ্যেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, এই নৈশভোজে আপাতদৃষ্টিতে তাদের ডাকা হচ্ছে না। যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বা সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাননি, মূলত তাদের মানভঞ্জন এবং মূল্যায়নের বিষয়টিই এই বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২ লাখ কোটি টাকা— নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার সংবাদ এটি।

এই খবরে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডেটাবেজে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো তথ্যানুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এসব ব্যাংক হলো অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

এদিকে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সরকার।

তেল-গ্যাস সরবরাহ নিয়ে আবারও চিন্তায় সরকার— যুগান্তরের শেষের পাতার খবর এটি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়েছে সরকার। জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরু এ পথ বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ আবারও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর শুধু জ্বালানি তেল ও এলএনজি বেশি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রির কারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা লোকসান দেয় সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জি-টু-জি প্রক্রিয়ায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। এ ব্যাপারে সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তির আওতায় গত মার্চ মাস থেকে কোনো কোম্পানি এলএনজি সরবরাহ করছে না। পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে।

এর মধ্যে গত মাসে যুদ্ধবিরতির কারণে এলএনজির দাম অনেক কমে এসেছিল। এখন বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কী হয় সেটা দেখার বিষয়।

দেশ রূপান্তরের শেষের পাতার সংবাদ— ৫০০ কোটি ডলার ঋণের 'ফ্রেশ ডিল' জানুয়ারিতে

এই প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ঋণচুক্তির আগে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া ঋণের অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা যাচাই করতে চায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বিশেষ করে খেলাপি ঋণের উচ্চহার কমানোসহ ব্যাংক খাতের আমূল সংস্কার ও বাজেট সহায়তার অর্থ ব্যবহার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধনে সরকারের অঙ্গীকার ও কার্যকরী ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চায়।

এ পটভূমিতে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গতকাল রোববার ঢাকা সফর শুরু করেছে। প্রতিনিধিদলটির আর্থিক ও রাজস্ব খাতে নেওয়া সংস্কার কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে।

এছাড়া, প্রতিনিধিদলটি সরকারের চাওয়া নতুন সাড়ে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৫০-৫০০ কোটি ডলার) ঋণের প্রযোজ্যতা ও যথার্থতা পরিমাপ করে প্রতিবেদন দেবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আইএমএফের বোর্ড সভায় আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুমোদন হতে পারে নতুন ঋণ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ভাষায় এটি 'ফ্রেশ ডিল'। নতুন ঋণ ব্যবহার করে সরকার মূলত পরিচালন ব্যয়ে বাজেট ঘাটতি পূরণ ও ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে চায়।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— Mujib Borsho cost taxpayers Tk 983 crore; অর্থাৎ মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ করা হয় ৯৮৩ কোটি টাকা।

এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছিল।

এ ব্যয়ের মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রতিকৃতি ও স্মৃতিফলক স্থাপন, ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেলের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ডিজিটাল কাউন্টডাউন বোর্ড স্থাপনের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।

গতকাল সংসদে জামায়াতের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

সম্পূরক প্রশ্নে আরও জানতে চাওয়া হয়, মুজিববর্ষের ব্যয় নিয়ে সরকার কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত শুরু করেছে কি না এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে কি না।

এসব বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকার সার্বিক বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং মূল্যায়ন শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।