যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের তেল নিয়ে নিতে পারেন এবং তাদের তেলের বড় হাব খারগ দ্বীপও দখল করতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন করতে পেরেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে।
গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, "আপনি বলতে পারেন যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কারণ তাদের (আগের নেতাদের) হত্যা করা হয়েছে"।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে আসা পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করতে পেরেছে।
তবে, এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি-না তার বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
পোপ লিও চতুর্দশ ভ্যাটিকানে পাম সানডে উপলক্ষে কথা বলার সময় আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে জড়িত নেতাদের সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেছেন, "যারা যুদ্ধ শুরু করে এবং যাদের হাত রক্তে ভরা, তাদের প্রার্থনা ঈশ্বর গ্রহণ করেন না"।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি দক্ষিণ লেবাননে 'সিকিউরিটি জোন' আরও বড় করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
'ইরানে শাসন পরিবর্তন হয়েছে'
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে তারা ইরানে সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) ঘটাতে পেরেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকেও তিনি বলেছেন, "আপনি বলতে পারেন যে সরকার বদলে গেছে, কারণ তাদের মেরে ফেলা হয়েছে।"
মি. ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে বলেন, সরকার পরিবর্তন হয়েছে কারণ আগের সরকার প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের নেতারা মারা গেছে। নতুন যারা এসেছে, তাদের অনেকে মারা গেছে।
"এখন একেবারে ভিন্ন ধরনের লোকজন পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। আমি এটাকেই সরকার পরিবর্তন মনে করি। সত্যি বলতে, তারা বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করেছে," বলেছেন তিনি।
"সুতরাং আমি মনে করি আমরা ইতোমধ্যেই সরকার পরিবর্তন করেছি। এর চেয়ে বেশি আর কী করা যায়"।
ট্রাম্প দাবি করে দাবি করেন, "যে সরকারটা খুব খারাপ ছিল, সেটা শেষ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দলও প্রায় নেই। তারা সবাই মারা গেছে, শুধু একজন হয়তো বেঁচে আছে।"
তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তি করবে।
"আমার মনে হয় আমরা তাদের সঙ্গে চুক্তি করব, তবে না-ও হতে পারে। ইরানের ব্যাপারে কিছুই নিশ্চিত না। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করি, আবার পরে হামলাও করতে হয়।"

ছবির উৎস, Getty Images
'যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিতে পারে'
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, তিনি চাইলে ইরানের তেল দখল করতে পারেন এবং দেশটির বড় তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপও দখল করতে পারেন।
"সত্যি বলতে, আমি ইরানের তেল নিয়ে নিতে চাই। কিন্তু আমেরিকায় কিছু লোক বলে—এটা কেন করছি। তারা বোকা," বলেছেন তিনি।
তিনি খারগ দ্বীপ দখল করা হতে পারেও ইঙ্গিত দেন। "হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তবে নিলে কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে।"
"আমার মনে হয় তাদের তেমন কোনো প্রতিরক্ষা নেই। আমরা খুব সহজেই দখল করতে পারব।"
এদিকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, কারণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার আশঙ্কা আছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তবে দ্রুত যুদ্ধবিরতি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
"একটি চুক্তি দ্রুতই হতে পারে," বলেছেন তিনি।

ছবির উৎস, Reuters
'কেন খারগ দ্বীপ দখলের চিন্তা'
যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপে নজর দিয়েছে কারণ এটি ইরানের সবচেয়ে বড় তেল টার্মিনাল, যা ইরানের অর্থনীতির লাইফ লাইন।
দ্বীপটি দখল করলে শুধু ইরানের তেল রফতানি বন্ধ হবে না, বরং এখান থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগও পাওয়া যাবে।
বিবিসির সিকিউরিটি ব্রিফের নিরাপত্তা বিশ্লেষক মিকি কে বলেন, দ্বীপটি দখল করলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর এর প্রধান একটি আয়ের উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করবে।
স্কুল অব ওয়ার পডকাস্টের উপস্থাপক এবং সিবিএস- এর জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ম্যাকলিন বলেন, দ্বীপটি দখলের জন্য যে কোনো মার্কিন অভিযান তুলনামূলকভাবে ছোট হবে, কিন্তু এটি হবে চ্যালেঞ্জিং।
এদিকে ইরানের হামলায় কুয়েতে একজন ভারতীয় কর্মী মারা গেছেন এবং সেখানকার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে ক্ষতি হয়েছে।
একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধনাগারে ইরান হামলা করেছিল।
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটিতে 'গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি' হয়েছে এবং 'জরুরি সেবাগুলো চালু রাখার জন্য' কারিগরি দল কাজ করছে।








