আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশে ঈদকে সামনে রেখে ট্রেনের টিকেট নিয়ে যত কাণ্ড
ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সাত নম্বর কাউন্টার থেকে ১৮ নম্বর কাউন্টার পর্যন্ত ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে। মূলত যমুনা নদী পার হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য টিকেট দেয়া হচ্ছে এখান থেকে।
সকাল থেকে এই লাইনগুলোতে দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজার খানেক মানুষ।
যাদের প্রায় প্রত্যেকে হয় অনেক রাতে অথবা সেহরির পর এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
সকাল সাড়ে ১১টার সময়ও তারা কাউন্টার থেকে বহুদূরে অবস্থান করছিলেন।
তাদের অভিযোগ মোবাইল অ্যাপসে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন প্রায় সব কয়জন। অ্যাপসের কার্যকারিতা বা সাফল্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছিলেন কয়েকজন।
শিক্ষার্থী তরী বলছেন, "আমি অ্যাপস ডাউনলোড করে রেখেছি, কিন্তু সকাল থেকে কেবল বাফারিংই হচ্ছে। আমি ঢুকতেই পারিনি।"
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
মায়মুনা নামে একজন যাত্রী যিনি রাজশাহীর টিকেট কিনতে এসেছেন তিনি বলছিলেন, "এ বছর যখন অর্ধেক টিকেট অ্যাপসের মাধ্যমে দেয়া হবে বলেছে, তখন আমরা অনেক আশা পেয়েছিলাম। কিন্তু গতকাল থেকে এখনো পর্যন্ত আমি অ্যাপসে ঢুকতেই পারি নাই। শেষে উপায় না দেখে এখানে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।"
দিনাজপুরের টিকেট কিনতে আসা সেলিনা বলছিলেন, "আমি এখন যে জায়গায় আছি সেখান থেকে কাউন্টার পর্যন্ত পৌছাতে আরো মিনিমাম দুই ঘন্টা লাগবে। ইতিমধ্যে এসি টিকেট শেষ বলে শুনেছি, আমি যেতে যেতে শোভন চেয়ার ও থাকবে কিনা, বা আমি আদৌ টিকেট পাবো কিনা জানি না।"
রাবেয়া মুনা নামে একজন যাত্রী বলেছেন, "আমি গতকাল থেকে চেষ্টা করছি, আমাকে বারবার দেখাচ্ছে 'লগইন ফেইলড', দুই একবার দেখিয়েছে 'টাইমড আউট'। আর বেশির ভাগ সময় এটা কেবল বাফারিং মানে খালি ঘুরতেছে, আমি আর অ্যাকসেস করতে পারছি না।"
এই অভিযোগ লাইনে দাঁড়ানো প্রায় সবার। ঈদ সামনে রেখে আজ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে আগাম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। আগামী ৩১ মের টিকেট বিক্রি হচ্ছে আজ। এবারই প্রথম কমলাপুর স্টেশনের বাইরে বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁও স্টেশন এবং ফুলবাড়িয়া থেকে টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে।
যাত্রীদের অভিযোগ নিয়ে কী বলছে রেলওয়ে
বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকা শহর ছেড়ে ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য প্রতিবছরই মানুষ যাত্রাপথে নানা ঝামেলার মুখে পড়েন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ শোনা যায় রেলের টিকেট পাওয়া নিয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, যাত্রীদের হয়রানি ঠেকানোর জন্যই মার্চের ২৮ তারিখে 'রেল সেবা' নামে মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে।
"আমরা অনেক সময়ই অভিযোগ শুনি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো একদিনের বেশি সময় লাইনে দাড়িয়ে মানুষ রেলের আগাম টিকেট কাটেন। আবার প্রায়শই কালো বাজারিদের হাতে টিকেট চলে যায়, এবং অনেক বেশি দামে তাদের কাছ থেকে টিকেট কিনতে হয় এমন অভিযোগও শোনা যায়। এসব সমস্যা দূর করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে এ বছর ঈদের আগাম টিকেটের অর্ধেক মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
তবে, অ্যাপসের মাধ্যমে টিকেট কিনতে গিয়ে যে ভোগান্তির অভিযোগ সে সম্পর্কে মিঃ রহমান জানিয়েছেন, একসঙ্গে অনেক মানুষ চেষ্টা করার কারণে এই সমস্যা হতে পারে।
"আমাদের অ্যাপসটা অ্যান্ড্রয়েড বেসড, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে। দেখা যায় ঈদের টিকেটের জন্য আগাম টিকেট যখন দেয়া শুরু হয়, তখন একসঙ্গে অনেক মানুষ চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু ডাটা ট্রাফিকের তো একটা লিমিট থাকে, ফলে এই অসুবিধাটা হয়"।
"আমার সার্ভারের সক্ষমতা ততটা নয়। ধরুন ঢাকা থেকে ১৪ হাজারের কিছু বেশি টিকেট বিক্রি হবে, এর বিপরীতে টিকেটের জন্য ট্রাই করবেন দুই থেকে আড়াই লক্ষ মানুষ। ফলে সার্ভারের গতি কমে যাবে বা জ্যাম হয়ে যেতে পারে।"
তবে, দুপুর একটা নাগাদ অ্যাপসের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার টিকেট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে। এছাড়া আগাম টিকেট বিক্রির সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে অবিক্রীত টিকিট ২৭শে মে কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মিঃ রহমান।
রেলওয়ে জানিয়েছে ঈদের জন্য ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার টিকেট বিক্রি হবে। এর অর্ধেক মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
এদিকে, রেলওয়ের অনলাইন টিকেট বিক্রি এবং মোবাইল অ্যাপসের সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম সিএনএস বিডি বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।