আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ঢাকার ফুটবল: পয়েন্ট তালিকার ১০ নম্বরে মোহামেডান, কারণ কি রাজনৈতিক?
"আজকে যে খেলা আছে এটাই অনেকে জানে না, কারো কোনো উত্তাপই নেই। এটা তো খুবই দুঃখজনক, ভাবাই যায় না," বলছিলেন নাজমুল আমিন কিরণ, যিনি বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাব মোহামেডানের একজন প্রবীণ ভক্ত।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার ম্যাচ রয়েছে।
যেই ম্যাচটি ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উন্মাদনা বা আগ্রহের কমতি দেখা গিয়েছে ৯-১০ বছর আগে থেকেই।
মি: কিরণের কাছে এই ম্যাচের তাৎপর্য জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ফিরে যান অতীতে, "সেই সময় হলে তো এক মাস আগে থেকে হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে যায়, আবাহনী-মোহামেডান খেলা অমুক দিন, কীভাবে যাবো, মারামারি লাগলে কোন পথে বের হবো, রাস্তা বন্ধ থাকলে কোন পথে বের হবো, এমন জল্পনা কল্পনা শুরু হয়ে যেতো।"
তিনি মনে করেন আবাহনী এখনো একটা ধারা ধরে রেখেছে, কিন্তু মোহামেডান ক্লাব হিসেবে অনেকটাই ব্যর্থ এখন।
আরো পড়ুন:
চলতি মৌসুমে মোহামেডান
চলতি মৌসুমে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে মোট ৭টি ম্যাচ খেলেছে।
পয়েন্ট পেয়েছে ৫।
লিগ টেবিলে দলটির অবস্থান ১০ নম্বরে, ১৩ দলের মধ্যে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করার পর থেকে এই পেশাদার লিগের শিরোপা কখনোই পায়নি মোহামেডান।
এর আগে ঢাকা লিগে ১৯বার শিরোপা জেতে মোহামেডান।
এছাড়া ১০বার ফেডারেশন কাপ এবং ৩বার স্বাধীনতা কাপ জেতে দলটি।
মোহামেডানের ব্যর্থতার পেছনে কারণ কি রাজনৈতিক?
মোহামেডানের প্রবীণ ভক্ত নাজমুল আমিন কিরণ মনে করেন অর্থের যোগান একটা বড় ব্যাপার এখানে।
"অনেকে ভালো দল নিয়ে এসেছে। সেক্ষেত্রে নতুন ক্লাবগুলো যেভাবে টাকা দিচ্ছে, সেখানে মোহামেডানের অর্থের যোগান খুবই কম," বলছিলেন মি: কিরণ।
মোহামেডানের পরিচালক সরওয়ার হোসেন, যার মতে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ফুটবলার সংকট সবচেয়ে বড় সমস্যা। দুই-তিনটি দল গঠনের পর আর ভালো মানের ফুটবরার বাকি থাকে না, পাইপলাইন বেশ দুর্বল।
"শেষদিকের পাচঁ-ছয়টি দলের ফুটবলারদের মান সবই সমান, দেশের ফুটবলের মানের কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলের সম্ভাবনা কমে যায়।"
"মোহামেডান মাঝারি মানের দল গঠন করে, কিন্তু নানা ধরণের সমস্যার কারণেই আসলে লিগ টেবিলে মোহামেডানের এই হাল।"
তবে মি: সরওয়ারের কথায় উঠে আসে আরো একটি কারণ, "আমাদের ২০১১ সালের আগে সরকারের বিরোধী দলীয় লোকদের প্রাধাণ্য বেশি ছিল যার কারণে এটা ভেবেই নেয়া হয় যে এটা বিএনপির ক্লাব বা বিএনপির সমমনা লোকদের দ্বারা ক্লাবটি পরিচালিত হয়, কিন্তু এটা এখন নেই।"
"মোহামেডান ক্লাবের জন্য যারা অর্থের যোগান দিতেন তাদের অনেকেই এখন নেই। যে ধরণের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী লোকদের সমাগম হলে মোহামেডান তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারতো তার সমন্বয়টা ঘটেনি।"
"আগের যারা ডোনার ছিল তারা বিএনপি সমমনা ছিল, একটা ভয় দেখানো হয়ে থাকে যে কেউ যদি মোহামেডান সাপোর্ট করে তাহলে সে বিএনপির হয়ে যাবে, যেই কারণে অনেকে পিছপা হয়েছে," বলছিলেন মি: সরওয়ার।
সাবেক তারকা ফুটবলার রনজিৎ সাহা স্মৃতির পাতায় পুরোনো দিনে কথা তুলে আনেন, "আগে বুঝতে পারতাম না যে এভাবে মানুষ আমাদের ভালোবাসতো এখন খালি স্টেডিয়াম দেখলে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রেডিও, পত্রিকা পাগলের মতো ছুটতো আমাদের জন্য। এগুলো এখনকার ফুটবলারদের জন্য অনুভব করাও কঠিন।"
"আমি স্টেডিয়াম গেলে এখন খারাপ লাগে, একে তো মাঠের খালি দশা আবার ফুটবলারদের মান সব মিলিয়ে।"
রনজিৎ সাহা আবাহনী, মোহামেডান ও বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন।