বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সরকার দলীয় নারী এমপিদের বিরোধী দলের এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি এবং জিও লেটার ইস্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সংসদ সদস্যের প্রশ্ন, "এই তথ্য থেকে আমাদের মনে হচ্ছে, তাদেরকে এই কাজ কি এইজন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধীদলীয় এমপি আছি, আমাদের এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হাত থাকবে ননা?"
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনি বোধহয় জানেন, আমাদের বা আপনাদের দল থেকে যেসব নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোনো আসন নেই।"
সে কারণেই "খুব স্বাভাবিকভাবে আমাদের যে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামো আছে, তার ভিত্তিতে আমরা দলীয় অবস্থান থেকে তাদের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করেছি যে তারা কোথায় কোথায় কাজ করবে।"
এরপর প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার নির্বাচনি এলাকায় আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চান। কিন্তু যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করেছে, সেহেতু খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একইরকমভাবে হক আছে।"
সেই চিন্তা থেকেই "সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমরা খুব স্বাভাবিকভাবে" এগোচ্ছি বলে জানান তিনি।
তিনি বিরোধী দলের এমপিদের আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনার এলাকার উন্নয়নে যদি আমার কোনো সহযোগিতা করা লাগে, আপনি জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতার চেষ্টা করবো।"
উল্লেখ্য, জিও লেটার বা গভ. অর্ডার লেটার হলো কোনো জনপ্রতিনিধি (এমপি, মন্ত্রী বা অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কর্তৃক সরকারি দপ্তরের কাছে দেওয়া একটি সুপারিশ বা অনুমোদনপত্র।
সাধারণত কোনো এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প, রাস্তা-মেরামত, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির জিও লেটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।