আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়ার তথ্য জানালো নির্বাচন কমিশন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ হলো আজ। ভোটার তালিকা সংশোধন বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন', সংক্ষেপে 'এসআইআর'- নিয়ে বিতর্কের পর এই রাজ্যের প্রথম ভোট এটি।

সরাসরি কভারেজ

  1. বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার প্রথম দফার ভোটে যা যা হলো:

    • পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে, বৃহস্পতিবার ভোট নেওয়া হয় রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে।
    • প্রথম দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের হার ৯১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।\
    • ভোটগ্রহণ পর্বের শুরুতে মানুষকে ভোটদানে এগিয়ে আসার আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
    • কিছু জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত গণ্ডগোলের খবর, মালদার মোথাবাড়িতে ইভিএম-এ সমস্যা নিয়ে বিক্ষোভ স্থানীয়দের।
    • ডোমকলে তৃণমূল ও সিপিআই (এম) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ।
    • হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে সারা দিন উত্তপ্ত ছিল মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা। সংঘর্ষ সামাল দিতে মাঠে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
    • নন্দীগ্রামে এবার ভোটগ্রহণ পর্ব হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবেই। এবার কোনও রকম গন্ডগোল হয়নি সেখানে।
    • ভোট চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গে প্রচারে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন, যেখানে ২৯শে এপ্রিল ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
    • নির্বাচনের আগে মীর জাফরের বংশধরদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে আলোড়ন উঠেছিল। কিন্তু এত কথা সত্বেও ভোট দিতে পারলেন না তারা।
    • আক্রান্ত হয়েছেন কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ও দক্ষিণ আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল। অভিযোগ তৃণমূলের উপরে।
    • কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর ভোটকে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জমা পড়েছে দু'শোটির বেশি অভিযোগ।
    • রেকর্ড সংখ্যক ভোট তৃণমূল কংগ্রেসের বাক্সেই যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জী।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোট নিয়ে বিবিসি বাংলা'র লাইভ পাতায় সাথে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আরো খবর ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুনবিবিসি বাংলা'র মূল পাতায়।

  2. পশ্চিমবঙ্গে 'রেকর্ড' পরিমাণ ভোট নিয়ে কী বলছে তৃণমূল?

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে, অন্তত নির্বাচন কমিশন থেকে প্রকাশিত তথ্য তাই বলছে।

    এই রেকর্ড সংখ্যক ভোট নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

    বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গীর একটি সভা থেকে তিনি বলেন, "মানুষ মনে করছেন এটা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। ডিলিমিটেশন, এনআরসি প্রভৃতি বিষয়ে মানুষ ভয় পেয়েছিল।"

  3. পশ্চিমবঙ্গে ভোটের রেকর্ড

    নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এ বার রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে। কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুসারে ভোট পড়েছে ৯১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    এর আগে ২০১১ সালে যে বিধানসভা ভোটের মাধ্যমে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ, যা গত কয়েকটি নির্বাচনের থেকে বেশি।

    ২০১১ সালের সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গেল ২০২৬-এর ভোট। যে ১৫২টি বিধানসভা আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়, সেগুলিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।

    যে ১৬ টি জেলায় আজ ভোট নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সাতটি জেলাতেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি।

    পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বিবিসিকে বলছিলেন যে এসআইআরের প্রেক্ষিতেই এবারের ভোট দানের হার বেশি হয়েছে।

    এ ছাড়াও এবার ভোট না দিলে নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে - এই ভয় কাজ করছিল অনেকের মধ্যে যদিও এমন কোনও বিবৃতি কোনও কর্তৃপক্ষের থেকে আসেনি।

  4. কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন সকাল থেকে একাধিক জায়গায় নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা-অস্থিরতার অভিযোগ এসেছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয় দলের তরফ থেকেই।

    কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

    উত্তর দিনাজপুরের চোপরায় ১৬৩ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর তিনজন নারীকে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    একই রকম অভিযোগ উঠে এসেছে সোনামুখী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। সেখানে বুথে বিশৃ্ঙখলা সৃষ্টির অভিযোগ সিআরপিএফের বিরুদ্ধে।

    নির্বাচনের প্রথম দফায় দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাতশোর বেশি অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

    এর মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের হেনস্তা করার অভিযোগ অন্তত ১০০টি। যদিও এই অভিযোগগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী বা নির্বাচন কমিশনের থেকে কোনো উত্তর আসেনি।

  5. এসআইআরের আতঙ্কেই 'রেকর্ড' পরিমাণ ভোট পড়ছে পশ্চিমবঙ্গে?

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণে কোন আসনে কত ভোট পড়েছে, তার যে হিসাব নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে সকাল থেকেই ভোটদানের হার যথেষ্ট বেশি। বেলা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে ভোটদানের হার।

    সর্বশেষ, বিকেল পাঁচটায় ভোটদানের যে হার প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন, তাতে দেখা যাচ্ছে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় – ৯৩.১২ শতাংশ। এরপরেই আছে কুচবিহার জেলা। সেখানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২ শতাংশ।

    ১৫২টি আসনে গড় ভোট পড়েছে ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    যে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ চলছে, সেগুলিতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।

    যে ১৬ টি জেলায় আজ ভোট নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সাতটি জেলাতেই ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি।

    এর আগে আসনওয়ারি ভোটদানের যে হার প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে সর্বশেষ, বিকেল তিনটে পর্যন্ত ১৫২টি আসনের যে ভোটদানের হারের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ আসনটিতেই সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে – প্রায় ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

    যে আসনে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পড়েছে, সেই রঘুনাথগঞ্জে ভোট দানের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ। মুসলমান অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটদানের হার কোথাও ৮৫, কোথাও ৮৪ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী যে ১৫২টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোট নেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে ৫৪টি আসনে ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে।

    বিকেল তিনটের মধ্যে ৭৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে, এমন আসন রয়েছে ৮০টিরও বেশি।

    সবথেকে কম ভোট যে আসনে পড়েছে, সেই পুরুলিয়া আসনেও ভোটদানের হার ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।

    গ্রামাঞ্চলের ভোটদান যারা দেখছেন আজ সকাল থেকে, তারা জানাচ্ছেন যে এদিন সকাল থেকেই ভোট দানের হার উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি ছিল।

    প্রায় তিন দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দেখছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য।

    তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এত বছর ধরে ভোট দেখছি, সবসময়েই দেখেছি যে গরমের কারণে হয় খুব সকালে, নয়তো রোদ পড়ে আসার পরে – আড়াইটে-তিনটে থেকে ভোটারদের লাইন বড় হতে থাকে। কিন্তু এবার দেখছি সকাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে ভোট দানের হার বেড়ে চলেছে"।

    যেসব অঞ্চল ভোটের দিনে অস্থিরতার জন্য একেবারে চিহ্নিত, সেখানে এবার বিশৃঙ্খলা তেমন হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, "সামান্য হাতাহাতি, ধাওয়া করা, কয়েকটা বোম পড়া – এসব তো একেবারেই তুচ্ছ। এর একটা অর্থ হচ্ছে মানুষ ‘এবার ভোটটা দিতেই হবে’ – এটা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এসআইআর নিয়ে যা হয়েছে, তারপরে ভোটার তালিকায় নাম থাকা কেউ আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বলেই মনে হচ্ছে”।

    কলকাতার সমাজ-গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সবর ইনস্টিটিউট’এর গবেষক সাবির আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলমান অধ্যুষিত আসনগুলোতে প্রচুর সংখ্যক ভোট পড়েছে দেখা যাচ্ছে। অথচ আমরা বিগত নির্বাচনগুলোয়, এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দেখেছি যে ওই অঞ্চলে নারীদের ভোট দানের হার বেশি – পুরুষদের তুলনায়। এর একটা কারণ হলো বড় সংখ্যক পুরুষ তো পরিযায়ী শ্রমিক – তাদের মধ্যে বহু মানুষ ভোট দিতে বাড়িতে আসেনই না"।

    “এবারে নারী আর পুরুষদের ভোটদানের হার যদিও এখনো প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন, তবে এত বেশি ভোট দানের হার দেখে মনে হচ্ছে বহু সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক পুরুষও ফিরে এসেছেন ভোট দেওয়ার জন্যই। আবার অন্যান্য জেলাতেও দেখা যাচ্ছে যে সকাল থেকেই ভোটদানের হার বেশিই থেকেছে। আমাদের মনে হচ্ছে এসআইআর নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মানুষের মনে, ভোটদানের এই হার দেখে মনে হচ্ছে মানুষ এবার নিশ্চিত করতে চাইছেন যাতে তারা ভোট দিতে পারেন,” বলছিলেন মি. আহমেদ।

    পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুকও বলছিলেন যে এসআইআরের প্রেক্ষিতেই এবারের ভোট দানের হার বেশি হয়েছে।

    তার কথায়, “এসআইআরের পরে যাদের নাম ভোটার তালিকায় থেকে গেছে, তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে এবারের ভোটটা দিতেই হবে। একটা প্রমাণ রাখার তাগিদ আমরা দেখছি মালদা – মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক অঞ্চলগুলোতে। কখনও দেখিনি যে ভোটার স্লিপের ফটোকপি করে রাখছেন মানুষ, এবারে সেটাও করেছেন তারা – যাতে পরবর্তীতে প্রমাণ করা যায় যে এসআইআরের পরে তার নাম ভোটার তালিকায় ছিল এবং তিনি ভোট দিয়েছেন"।

    “আবার বহু মানুষ, যারা ভিন রাজ্যে কাজ করেন, তারা বড় সংখ্যায় ফিরে এসেছেন যাতে ভোট দেওয়া যায়। এসআইআরের ভয়ই কাজ করেছে এত বেশি ভোট দানের হারের পেছনে,” বলছিলেন মি. ফারুক।

  6. পশ্চিমবঙ্গে আট ঘণ্টায় ভোট পড়ল প্রায় ৭৯ শতাংশ

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিনে বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত গড় ভোট পড়েছে ৭৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

    নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখাচ্ছে যে ভোট গ্রহণের আট ঘণ্টায় সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ আসনে। সেখানে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    এই আসনটি মুসলমান অধ্যুষিত এবং এই আসন থেকেই ভোটার তালিকায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছিল।

    অন্য যে দুটি আসনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক নাম এসআইআর থেকে বাদ পড়েছিল, সেই লালগোলা ও ভগবানগোলা আসন দুটিতেও যথাক্রমে প্রায় ৮৫ শতাংশ ও প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।

    ওই তিনটি অঞ্চলেই যখন বিবিসির সংবাদদাতারা গিয়েছিলেন, তখন দেখেছেন যে বহু পরিযায়ী শ্রমিক অন্য রাজ্য থেকে শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই বাড়ি ফিরে আসছেন।

    এই তিনটি এলাকার মানুষদের মধ্যে একটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে এবারের ভোট না দিতে পারলে যদি ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়, তাই তারা কাজের পরোয়া না করেই বাড়ি ফিরেছেন।

    রাজ্যের বিদায়ী বিধানসভায় বিরোধী-দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে লড়ছেন, সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে সবথেকে কম ভোটদানের হার পুরুলিয়া আসনটিতে। সেখানে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।

    বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

  7. 'আক্রান্ত' বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার, অগ্নিমিত্রা পালের গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ

    বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের হতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    বিজেপি অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলের একাধিক ভোটকেন্দ্র থেকে বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টদের জোর করে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কর্মীরা।

    যখন মি. সরকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ২৪ নম্বর বুথে যান, তখন তৃণমূল কর্মীদের দ্বারা তাকে আক্রমণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শুভেন্দু সরকারকে ধাওয়া করে হেনস্থা করছে কয়েকজনের একটি দল।

    অন্যদিকে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বার্নপুর অঞ্চলের রহমতনগরে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে।

    হীরাপুর থানায় অভিযোগ করেছেন আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল।

    দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

  8. নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের

    কয়েকটি বিক্ষিপ্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ মূলত শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেই মনে করেন সিপিআই (এম)-এর মহম্মদ সেলিম। বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব অস্থিরতার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে তার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন।

    সিপিআই (এম)-এর রাজ্য সম্পাদক বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “এখনো পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে সামান্য সহিংসতা ছাড়া।”

    কিন্তু যে কয়টি বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ উঠেছে তার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন। তার কথায় এই ঘটনাগুলোয় “নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা স্পষ্ট”।

    এর মধ্যে একাধিক ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

  9. ভোট দিতে পারলেন না তালিকা থেকে বাদ পড়া মীর জাফরের সেই বংশধররা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোট দিতে পারলেন না ‘ছোটে নবাব’ হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলি মির্জা। তিনি হলেন মীর জাফরের বংশধর।

    তার ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জাসহ মীর জাফরের বংশের দেড়শোরও বেশি সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।

    প্রথম দফায় এদিন মুর্শিদাবাদে ভোট গ্রহণ হলেও সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম আলি মির্জা, তার ছেলে এবং পরিবারের যে সব সদস্যদের নাম নেই, তারা ভোট দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।

    মুর্শিদাবাদের লালবাগের 'কেল্লা নিজামত' এবং তার আশপাশের অঞ্চলে বাস করেন মীর জাফরের বংশের সদস্যরা।

    তাদের পরিবার জানাচ্ছে, প্রাথমিক ভোটার তলিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে অনেককেই শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং সেখানে তারা সব নথিপত্র জমাও দিয়েছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, তবুও তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ গিয়েছে।

  10. উত্তপ্ত নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে নজর রাখার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন

    পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রথম দফার ভোট গ্রহণের দিন সকাল থেকেই হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে মুর্শিদাবাদে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ওই ঘটনার উপর সজাগ নজর রাখছে কমিশন।

    এই অস্থিতিশীলতার দায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপর চপিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধার পরে সিআরপিএফ ও পুলিশ রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    তবে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মীরা গণমাধ্যমকে বলেছেন যে মি. কবীরই 'সমাজবিরোধীদের' নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিলেন।

    ইতোমধ্যে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এফআইয়ার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসকর্মীরা।

    নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে মি. কবীর এলে তাকে ঘিরে প্রথমে 'গো ব্যাক' স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তারপর হুমায়ুন কবীরও প্রতিবাদে রাস্তার মাঝে বসে পড়েন।

    পরে মি. কবীর ওই এলাকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    হুমায়ুন কবীর আগে তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিধায়ক ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ গড়ার ঘোষণা করেন তিনি। তারপরেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    এরপরে তিনি নিজের দল গড়েন। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের সঙ্গে এই ভোটের জন্য জোট গড়েছিলেন তিনি। তবে একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরে তার সঙ্গে মি. ওয়াইসি নির্বাচনী জোট ভেঙে দেন।

  11. পশ্চিমবঙ্গে ছয় ঘণ্টায় ৬২ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে

    চলছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। ১৫২টি কেন্দ্রে চলছে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব।

    ইলেকশন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর একটা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোট পড়েছে ৬২ দশমিক ১৮ শতাংশ যার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে।

    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৬৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে দুপুর ১টার মধ্যেই।

    ভোটার টার্নআউটের দিক থেকে এখন পর্যন্ত পিছিয়ে মালদা জেলা। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

  12. ‘ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের’- মোদী

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ যখন চলছে, এরই মাঝে রাজ্য সফরে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন, যেখানে ২৯শে এপ্রিল ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

    ওই সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায় নরেন্দ্র মোদীকে। পাশাপাশি একদিকে যেমন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তেমনই দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে তার ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

    তিনি বলেন, “গত পঞ্চাশ বছরে এটাই প্রথম নির্বাচন যেখানে সবচেয়ে কম সহিংসতা দেখা যাচ্ছে”।

    তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় বিশৃঙ্খলা দেখা যায় এবং সহিংসতাও হয়, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবারে তেমনটা হতে দিচ্ছে না।

    “আমি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আরো একবার লোকতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোট শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বড় কৃতিত্ব রয়েছে। আমি সরকারি করমচারীদেরও অভিনন্দন জানাচ্ছি কারণ তারাও নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন,” বলেছেন মি. মোদী।

    প্রধানমন্ত্রীকে এই সভায় রসিকতাও করতে দেখা যায়। তিনি বলেছেন, “বিজেপি জিতলে মিষ্টি বিতরণ করা হবে, ঝালমুড়িও বিতরণ করা হবে। শুনেছি ঝালমুড়িও অনেককে ব্যাপক ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি খেলাম আমি, আর ঝাল লাগল তৃণমূলের”।

    দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে স্থানীয় এক দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলসহ বিরোধীরা সেই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তারই জবাব দেন মি. মোদী।

  13. হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে ভোটগ্রহণের দিন ফের উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ

    তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়নের কর্মীদের দফায় দফায় সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা বিধানসভা ভোট।

    সকাল থেকেই অস্থিতিশীলতার খবর সামনে আসছে। সকালে শিবনগরে ভোটকেন্দ্রের কাছেই বোমাবাজির খবর আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে।

    হুমায়ুন কবীর এলাকায় আসতেই তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে মি. কবীরকে ঘিরে 'গো ব্যাক' স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তারপর হুমায়ুন কবীরও প্রতিবাদে রাস্তার মাঝে বসে পড়েন।

    পরে মি. কবীর ওই এলাকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    কনভয়ের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পোলিং এজেন্টের গাড়িতে ইট নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় বিক্ষোভস্থল থেকে বেরিয়ে যান হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গোলমাল পাকানোর অভিযোগ তুলেছে।

    সকালে মুর্শিদাবাদেরই ডোমকল কেন্দ্রে সিপিআই (এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে পুলিশ। এর ফলে ২১৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে যেতে তারা বাধার মুখে পড়েন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পরে মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার আবেদন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

  14. নন্দীগ্রামে গিয়ে ভোটের যে চিত্র দেখলেন বিবিসি সংবাদদাতা

    আজ সকালে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ময়ূরী সোম যখন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে পৌঁছান, ততক্ষণে প্রায় প্রতিটি পোলিং বুথের সামনেই ভোটারদের লম্বা লাইন পড়ে গেছে। পুরুষ ও নারীদের আলাদা আলাদা লাইন।

    প্রতিটা বুথের সামনেই আট-নজন করে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সিআরপিএফের জওয়ান পাহারায় মোতায়েন। প্রতিটা দলেই নারী সিআরপিএফ সদস্যরাও রয়েছেন।

    ময়ূরী জানাচ্ছেন, “আমি যখন নন্দীগ্রামে পৌঁছাই, তখন কোথাও কোনো উত্তেজনার ছিটেফোঁটা নেই। প্রচন্ড রোদ আর সাঙ্ঘাতিক গরম, তারপরেও ফুরফুরে মেজাজে ভোট হচ্ছিল। প্রতিটা বুথের সামনেই বেশ লম্বা লাইন। ”

    “বয়স্ক মানুষরা টোটাতে (ব্যাটারিচালিত যান) চেপে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসছিলেন। তবে তাদের টোটো পোলিং স্টেশন থেকে মোটামুটি পঞ্চাশ পা দূরেই থামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। বাকিটা পথ তারা হেঁটে আসছিলেন।”

    সাধারণ মানুষরা অনেকেই সাইকেলে, মোটরবাইকে বা পায়ে হেঁটেও ভোট দিকে আসছিলেন।

    “পোলিং বুথের বাইরে বড় বড় ব্যানার টাঙানো, যাতে লেখা 'আপনারা রয়েছেন ওয়েবকাস্টিং আর সিসিটিভি নজরদারির আওতায়!' এমনভাবে সেগুলো টাঙানো যাতে তা ভোটারদের চোখ এড়ানোর জো নেই,” জানান ময়ূরী।

    বিবিসির সংবাদদাতা আরও বলছিলেন, ভোটকেন্দ্রে সিআরপিএফ বাহিনী মোতায়েন ছিল গতকাল থেকেই। আজ সকালে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর কড়াকড়ি আরও বেড়েছে স্বাভাবিকভাবেই।

    ভোটের লাইন দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই জানালেন, বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের যাতে লাইনে দাঁড়াতে না হয়, নিরাপত্তা বাহিনীই সেটা নিশ্চিত করছে এবং তাদের আগেভাগে ভোট দেওয়ানোর ব্যবস্থা করছে।

    তবে নন্দীগ্রামের তরুণ ভোটাররা অনেকেই বললেন, প্রায় দুই ঘণ্টার ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তারা ভোট দিতে পেরেছেন।

    নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী তারই এক সময়ের ঘনিষ্ঠ অনুগামী পবিত্র কর, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী।

    শুভেন্দু অধিকারী গতবার (২০২১ সালে) এই নন্দীগ্রাম থেকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে কয়েকশো ভোটে হারিয়েছিলেন।

  15. ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ক্ষমতা দখলের লড়াই

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট শাসক ও বিরোধী- সব পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে এই নির্বাচন ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, তেমনই বিরোধী বিজেপির কাছে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা।

    মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার বিধানসভা ভোটে জিতেছে।

    উপনির্বাচন মিলিয়ে ২০২১ সালে ২১৫টা আসন তাদের দখলে ছিল। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপির ঝুলিতে প্রাথমিকভাবে ৭৭টি আসন ছিল।

    পরবর্তীতে উপনির্বাচনের পর তা কমে ৭৫-এ দাঁড়ায়।

    অন্যদিকে, বাম দলগুলো বা কংগ্রেসের কেউই বিধানসভায় আসন পায়নি। বিধানসভা নির্বাচনের পরে একাধিক বিজেপি বিধায়ক দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।

  16. বড় ইস্যু এসআইআর, আরো যেসব বিষয় ভোটে প্রভাব রাখতে পারে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে উঠে এসেছে একাধিক ইস্যু। তবে সবথেকে বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে ভোটার তালিকায় সংশোধন বা এসআইআরের বিষয়টি।

    নিবিড় সংশোধনের পরে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুসলমান অধ্যুষিত আসন - মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জে।

    সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট বৈধ নথি দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। যেসব ভোটার বাদ পড়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রথম দফা ভোটগ্রহণের এলাকার মাত্রই ১৩৯ জন ভোটারের নাম তালিকায় তুলেছে ট্রাইবুনাল।

    বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির তথ্য প্রকাশ করেছে।

    এসআইআর এবং এই প্রক্রিয়ার পর বাদ যাওয়া নামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দান যেমন সরগরম হয়েছে তেমন নাগরিক সমাজও সরব হয়েছে।

    এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা, নারী-সুরক্ষা, দুর্নীতিসহ অন্যান্য বিষয়ও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে ইন্টার্ন- চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা, কলকাতার এক আইন কলেজে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা রাজ্যে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ এবং পুরসভায় কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতিসহ একাধিক ঘটনায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে যার জেরে ‘অস্বস্তিতে’ পড়তে হয়েছে মমতা ব্যানার্জীর দলকে।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলা বললেই ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া এবং হেনস্তার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছে বলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়েছে।

  17. বুথের বাইরে অন্য ‘মুডে’ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা

    পশ্চিমবঙ্গের একটি ভোট গ্রহণ বুথের বাইরে দেখা মিলল কয়েকজন ‘বিশেষ অতিথির’।

    দার্জিলিং-এর একটি মডেল পোলিং স্টেশনে বুথের দেখা গেছে কয়েকজন বিদেশি পর্যবেক্ষককে; একই ছবি ধরা পড়েছে কার্শিয়াং-এর একটি বুথেও।

    পশ্চিমবঙ্গে ভোট কেমন হচ্ছে, তা দেখতে এসেছেন তারা।

    এই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে আগেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।

    তবে ভোটের বুথের বাইরে তাদের অন্য ‘মুডে’ দেখা যায়। এই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়।

  18. আজ কতক্ষণ পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে পশ্চিমবঙ্গে?

    পশ্চিমবঙ্গে ১৫২টি বিধানসভা আসনে সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে নির্বাচন কমিশন এটাও জানিয়েছে যে অঞ্চল বিশেষে এই সময়সীমার কিছু হেরফের ঘটতে পারে।

    সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে যারা ভোটেকন্দ্রের লাইনে থাকবেন, ভোটের সময় পার হয়ে গেলেও তারা ভোটদানের সুযোগ পাবেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন ও সব দলের পক্ষ থেকে জনগণকে সকাল সকাল ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

  19. তামিলনাড়ুতেও চলছে বিধানসভা ভোট

    পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ুতেও ভোট চলছে হচ্ছে আজ।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা ভোট গ্রহণ হলেও তামিলনাড়ুতে ২৩৪টি আসনে এই একটি দফাতেই ভোট গ্রহণ হচ্ছে।

    এই ভোটে তামিলনাড়ুর চার হাজার ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই ভোটের ফল জানা যাবে চৌঠা মে।

    ২০২১ সালের দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১৫৯টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্য সরকার গঠন করে এবং এম কে স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

    সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) ৬৬টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠে। এই দলের নেতা এডাপ্পাদি কে. পালানিস্বামী বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

    চলতি বছরের বিধানসভা ভোটে কে জয়ী হন সেই দিকে সকলের নজর রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

  20. ভোটগ্রহণের শুরুতেই বুথে এলেন 'হেভিওয়েট' প্রার্থীরা

    সকাল সকাল ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে হাজির হয়ে ভোট দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা। ভোট দিয়ে রাজ্যবাসীকে ভোট দিতে এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছেন সব দলের প্রার্থীই।

    নিজের বাসস্থান কাঁথি থেকে নন্দীগ্রাম এসে নন্দনায়কবর প্রাইমারি স্কুলে নিজের ভোট দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

    গতবার ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এই কেন্দ্রে তার প্রতিপক্ষ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের পবিত্র কর।

    অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী যেখানে তার প্রতিপক্ষ মমতা ব্যানার্জী। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯শে এপ্রিল।

    অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি কেন্দ্র ভোট দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব।

    ২০১১ ও ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ির পার্শ্ববর্তী ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন গৌতম দেব।

    অবশ্য ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী শিখা চ্যাটার্জীর কাছে পরাজিত হন। এবার তিনি শিলিগুড়ি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। মূল প্রতিপক্ষ বিজেপির শঙ্কর ঘোষ।

    মালদার ইংরেজবাজার কেন্দ্রে নিজের ভোট দিলেন মালদার কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম নূর। তার সঙ্গে ছিলেন মালদার কংগ্রেস এমপি ইশা খান চৌধুরী। দুজনেই মালদার রাজনৈতিকভাবে প্রতিপত্তিশীল গনি খান চৌধুরি ও আবু হাসেম খান চৌধুরির পরিবারের সদস্য।

    পরিবারের সবাই কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৯ সালে মৌসম নূর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে ফের ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসে ফিরে যান তিনি।

    ভোট দিয়ে তার বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে "ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখাকেই" তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।