আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
রামিসা হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র জমা, শুনানি পহেলা জুন
ঢাকার পল্লবীর সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এরপরেই মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পহেলা জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রোববার বিকাল সাড়ে তিনটার কিছু পরে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মহানগর আদালত অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেন।
এরপর সেই আদালতের বিচারক অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে পহেলা জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। শুনানির পর চার্জশিট বা অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।
এর আগে সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আনা হয় এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী রুপা আক্তারকে।
এর আগে দুপুরে সচিবালয়ের এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চার্জশিট দাখিলের পর পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক কাজ সম্পন্ন হবে।
চার্জশিটে এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সোহেল রানাকে। তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।
আদালতে শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ''এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। রাষ্ট্রপক্ষ দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা করেছে। আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আগামী পহেলা জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।''
আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আগেই ঢাকা আইনজীবী সমিতি ঘোষণা দিয়েছিল যে, অভিযুক্তদের পক্ষে কেউ দাঁড়াবেন না।
শনিবার এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান দুলুকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এর আগে আটকের পর গত বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।
শনিবার সিআইডি থেকে মামলার ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত ২১শে মে রাতে রামিসার বাসা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
ওইদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রোববারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল সম্ভব হলে ঈদের পরপরই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
গত ১৯শে মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু রামিসার মৃতদেহ।
ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করে।
নৃশংস এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার পর দেশজুড়ে নানা প্রতিবাদ চলছে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারেরও দাবি জানিয়ে আসছে।
পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোববার সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম বা বিএসআরএফ আয়োজিত 'বিএসআরএফ সংলাপে' তিনি এই কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া আসামিকে সাত ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামি একদিনের মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সহযোগী অপরাধী হিসেবে তার স্ত্রীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে'।
তিনি বলেন, "আমরা দ্রুত আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি। সেই টেস্ট তিন দিনের সময় লাগে, তিন দিনের মধ্যে সেটা সমাপ্ত হয়েছে। রিপোর্ট কালকে বিকেলে জমা দেওয়া হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা এরই মধ্যে আমরা হাতে পেয়েছি"।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এগুলো সব একসঙ্গে করে, কম্পাইল করে চার্জশিট প্রণয়নের কাজটা কাল রাতের মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে"।
মি. আহমদ বলেন, "আদালতের ছুটি থাকলেও এ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালতের ছুটি চিফ জাস্টিস বাতিল করার চিন্তা করছেন; এটা আইন মন্ত্রণালয় ডিল করছে"।
তিনি বলছিলেন, "শুধু এই মামলাটি ডিল করার জন্য আমরা একজন স্পেশাল পিপি নিয়োগ করেছি। সবকিছু বিবেচনায় আমরা আশা করছি যে আজকের মধ্যেই চার্জশিট দেওয়া হবে এবং খুব সম্ভবত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এই বিচার সমাপ্ত হবে"।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত আসামিদের যাতে গ্রেফতার করা যায়, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না"।
এসময় মি. আহমদ বলেন, "সরকার হিসেবে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বিচারের ব্যবস্থাটা নিশ্চিত করছি। আমরা সবচেয়ে মনোযোগ এখানেই দিয়েছি যে দ্রুততম সময়ে যাতে অভিযুক্ত বা অপরাধীরা গ্রেফতার হয়। সেই জায়গায় এই তিন মাসে প্রত্যেকটি ঘটনায় আমরা সফল হয়েছি। আর ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের যেকোনো ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত বা অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না"।