স্যামন মাছের শুক্রাণু থেকে পাখির বিষ্ঠা - সৌন্দর্যচর্চার অদ্ভুত সব ট্রেন্ডের পেছনে রয়েছে যে বিজ্ঞান

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

সামাজিক মাধ্যমে বর্তমানে বিউটি থেরাপি বা রূপচর্চার বিচিত্র সব ট্রেন্ড চলছে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণা কি বলছে, এগুলো আসলেই কার্যকর?

দক্ষিণ কোরিয়ার সোওলের 'ইউ অ্যান্ড আই' ক্লিনিকে ত্বকে সজীবভাব ফেরানোর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রিটমেন্টগুলোর একটি হলো ত্বকের ডার্মিস স্তরে, অর্থাৎ ত্বকের মাঝখানের পুরু স্তর যেখানে রক্তনালী, স্নায়ু এবং গ্রন্থি থাকে, সেখানে স্যামন মাছের শুক্রাণু থেকে নেওয়া ডিএন-এর ক্ষুদ্র অংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়।

ক্লিনিকটির নন্দনতত্ত্ব বিভাগের চিকিৎসক এবং ইয়োসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাজাঙ্কট প্রফেসর কিউ-হো ই বলেন, "এর লক্ষ্য ফিলারের মতো ত্বক টানটান করা নয়, বরং এটি ত্বকের প্রাইমিং বা বায়োস্টিমুলেশন হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে সুস্থ রাখা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।"

বিষয়টি শুনতে অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু কিউ-হো ই জানিয়েছেন, এ ধারণা এসেছে মূলত রিজেনারেটিভ মেডিসিন এবং ক্ষত নিরাময় বিদ্যা থেকে।

যুদ্ধক্ষেত্রে আহত ব্যক্তিদের মুখের ক্ষতচিহ্ন সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ত্বকের টিস্যু পুনর্গঠন করার কাজে মাছের ডিএনএর অংশগুলো ব্যবহার করা হত, সেখান থেকেই মূলত এটি বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।

এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনো তুলনামূলকভাবে কম, তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে এই চিকিৎসা পদ্ধতি, যা মূলত স্যামন মাছের শুক্রাণুর বিশুদ্ধ 'পলিনিউক্লিওটাইড' ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, সেটি ত্বকের সূক্ষ্ম বলিরেখা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

"এগুলো ত্বকের আর্দ্রতা, সজীবতা, গঠন উন্নত করতে এবং বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে," বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জশুয়া জিশনার, যিনি বিভিন্ন স্কিনকেয়ার কোম্পানির পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, "এটি ঠিক স্পষ্ট নয়, ঠিক কে প্রথম এ পদ্ধতিটি ত্বকের চিকিৎসায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে তারপরও এটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে।"

বর্তমানে সারা দুনিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়াকে সৌন্দর্যচর্চার ট্রেন্ডসেটার বা পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়, যাকে 'কে-বিউটি ক্রেজ' বলা হয়ে থাকে। এ কারণে স্যামন এবং অন্যান্য মাছের শুক্রাণু ইনজেকশনের তথাকথিত উপকারিতার কথাও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

আর এর পেছনে চার্লি এক্সসিএক্স থেকে শুরু করে জেনিফার অ্যানিস্টনের মতো তারকাদের বড় ভূমিকা রয়েছে।

পাখির বিষ্ঠা দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক এবং রক্ত চোষা 'ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়ালে'র মতো কিছু অদ্ভুত চিকিৎসার পাশাপাশি এই ইনজেকশনগুলোর জনপ্রিয়তাও বিগত বছরগুলােতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অস্বাভাবিক এবং ট্রেন্ডি স্কিনকেয়ার পদ্ধতিগুলো কি আসলেই কাজ করে?

সৌন্দর্যচর্চার প্রাচীন পদ্ধতি

ইতিহাসের বইগুলোতে একবার চোখ বোলালেই দেখা যাবে যে, প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার ইতিহাসে বেশ কিছু অদ্ভুত রীতির প্রচলন ছিল।

গুজব আছে যে, মিশরের রানী ক্লিওপেট্রা প্রতিদিন টক হয়ে যাওয়া গাধার দুধে গোসল করতেন।

মিয়ানমারে কয়েক শতাব্দী ধরে নারীরা তাদের মুখে 'থানাকা' নামক এক ধরনের পেস্ট ব্যবহার করে আসছেন, যা এক ধরনের গাছের ছাল পিষে তৈরি করা হয়।

এটি তারা সাজগোজের পাশাপাশি রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্যও ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে, মুখের ত্বকে মেছতার দাগ দূর করার জন্য রোমানদের এক আজব প্রতিকার ছিল- ছোট কুমিরের নাড়িভুঁড়ি পিষে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দেওয়া।

তবে, সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে গেলেও, আধুনিক চর্মবিজ্ঞানের কাজের ধারায় দেখা যাচ্ছে, প্রাচীন সৌন্দর্যচর্চার উপায়গুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সময়ের পরীক্ষায় টিকে গেছে।

এর মধ্যে কাঁচা হলুদ, টাইগার গ্রাস বা থানকুনি জাতীয় লতা এবং সামুদ্রিক শৈবালের মতো উপাদানগুলো তাদের প্রদাহ-প্রতিরোধী এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার কার্যকারিতার কারণে বর্তমান সময়ের প্রসাধনীতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২২ সালে এক গবেষণায় প্রাচীন রূপচর্চার কিছু পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল, যা দ্বাদশ শতাব্দীর ইতালিতে প্রচলিত ছিল - এসব পদ্ধতির উল্লেখ পাওয়া গেছে ট্রোটা অব সালার্নো নামে মধ্যযুগীয় বিখ্যাত একজন নারী চিকিৎসকের লেখায়।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, প্রস্তাবিত অনেক উপাদান যেমন ফ্যাভা বিন, যা মাষকলাই ডাল হিসেবে পরিচিত এবং ভিনেগার বা সিরকা মুখের ত্বক পরিষ্কার, মরা চামড়া অপসারণ এবং শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসার জন্য এখনাে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, টার্টার তেলের একটি নির্যাস যাকে টারটারিক অ্যাসিড বলা হয়, তা বর্তমানে আধুনিক ত্বকচর্চায় একটি সাধারণ উপাদান।

গেইশা ফেসিয়াল এবং মেনস্ট্রুয়াল মাস্কিং

এ পদ্ধতি কেবল প্রকৃতিতে পাওয়া উদ্ভিদ, ভেষজ বা খনিজ উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই যেমন ধরুন- তথাকথিত 'গেইশা ফেসিয়াল' এ নাইটিঙ্গেল পাখির বিষ্ঠা ব্যবহার করা হয়।

প্রথমে শক্তিশালী অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে এই বিষ্ঠাকে জীবাণুমুক্ত করা হয়, এরপর এর সাথে ত্বকের মরা কােষ পরিষ্কার করে এবং ত্বক উজ্জল করে এমন রাসায়নিক মিশিয়ে ফেস মাস্কের মতো মুখে লাগানো হয়।

বিষ্ঠা বা মল ব্যবহার করার এ পদ্ধতির উৎপত্তি কয়েক শতাব্দী আগের একটি জাপানি আবিষ্কার থেকে।

সেখানে তারা লক্ষ্য করেছিলেন যে, জাপানি বুশ ওয়ারব্লার নামে এক ধরনের নাইটিঙ্গেল পাখির মল কাপড়ের রঙ তোলার কাজে ব্যবহার করা যায়।

পরবর্তীতে জাপানের বিনোদন জগতের নারী, যারা 'গেইশা' নামে পরিচিত ছিলেন, তারা তাদের গায়ের রঙ ফর্সা করা এবং ভারী মেকআপ তোলার জন্য এই মলের ব্যবহার শুরু করেন।

বর্তমানে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ক্লিনিকে এটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তিও থাকতে পারে।

জিশনার বলেছেন, নাইটিঙ্গেল পাখির বিষ্ঠায় প্রচুর পরিমাণে ইউরিয়া থাকে। এটি এমন এক রাসায়নিক উপাদান যার ত্বক নরম করার চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে, আর এ কারণেই এটি সাধারণত বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজারে ব্যবহার করা হয়।

এতে উচ্চমাত্রায় অ্যামিনো অ্যাসিড গুয়ানিন থাকে।

জিশনার বলেন, "অ্যামিনো অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়ক বলে প্রমাণিত হয়েছে।"

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "এটা মনে রাখা জরুরি যে, এই চিকিৎসায় কেবল পরিশোধিত এবং প্রক্রিয়াজাত করা পাখির বিষ্ঠা ব্যবহার করা হয়। আপনার উচিত হবে না রাস্তা থেকে পাখির মল কুড়িয়ে এনে তা মুখে মাখা।"

এখানে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, এসব চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর করা অনেক গবেষণাই সৌন্দর্য শিল্পের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে হয়েছে, অথবা সরাসরি ওইসব কোম্পানিতে কর্মরত বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

তবে, টিকটকে প্রচলিত আরেকটি তথাকথিত ডিআইওয়াই বা নিজে করার ঘরোয়া রূপচর্চা পদ্ধতিও আজকাল বেশ আলােচনায় আছে, যা নিয়ে গবেষকরা খুব একটা উৎসাহী নন, আর তা হলো 'মেনস্ট্রুয়াল মাস্কিং' বা ঋতুস্রাবের রক্ত দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক।

যদিও ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, সাধারণ প্লাজমা বা রক্তরসের তুলনায় ঋতুস্রাবের তরল থেকে পাওয়া প্লাজমা ক্ষত নিরাময় ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হতে পারে।

যদিও, কিংস কলেজ লন্ডনের চর্মরোগ গবেষক বেইবেই ডু-হার্পার ওই গবেষণার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না।

তিনি বলেছেন, "কোনো চিকিৎসকই কখনো এমন পরামর্শ দেবেন না। আমার মনে হয় এটি কেবল টিকটকের সেই ট্রেন্ডগুলোর মধ্যে একটি, যা কেবল মানুষকে চমকে দিয়ে ভিউ পাওয়ার আশায় তৈরি হয়েছে।"

ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়ালস এবং প্লেটলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা

ডু-হার্পার ত্বক সজীব করার ক্ষেত্রে প্লাটিলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা ইনজেকশনের সম্ভাবনার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী, যাকে অনেক সময় 'ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল' নামেও ডাকা হয়।

এই পদ্ধতিতে রোগীর নিজের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হয় এবং একটি সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্র ব্যবহার করে সেই রক্তকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রক্তরসের উন্নতি ঘটায় এমন বিশেষ ধরনের এক প্রোটিন যা কোষকে বৃদ্ধি, বিভাজন ও মেরামতের নির্দেশনা দেয়, তার ঘনত্ব বৃদ্ধি করে।

এরপর একটি ক্ষুদ্র সূঁচের সাহায্যে সেই রক্ত পুনরায় মুখের ত্বকে ইনজেক্ট বা প্রবেশ করানো হয়।

শরীরের যেসব কােষের পুনর্জন্ম হয় তার ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা বর্তমানে চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করছে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং হাড়ের জয়েন্টে সমস্যা থেকে শুরু করে চুল পড়া এবং ক্ষত নিরাময় - এই সবখানেই এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা চলছে।

ত্বকের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রমাণ থাকলেও, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি বয়সের দিক থেকে ৫০ ও ৬০ এর কোঠায় থাকা মানুষের ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং বলিরেখা ও পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।

পিআরপি বা প্লাটিলেট-সমৃদ্ধ প্লাজমা মানুষের জন্য কতটা সফল হবে, সে নিয়ে বেশ মতভেদ রয়েছে বলে জানান ডু-হার্পার।

তিনি বলেন, এর কারণ হলো সেন্ট্রিফিউজ প্রক্রিয়ায়, মানে রক্ত থেকে উপাদান আলাদা করার যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয়, তার ভিন্নতা।

এছাড়া, একেকজনের রক্তে প্রাকৃতিকভাবেই গ্রোথ ফ্যাক্টরের ঘনত্ব কম-বেশি হতে পারে অথবা রক্তে বিভিন্ন ধরনের গ্রোথ ফ্যাক্টরের উপস্থিতি থাকতে পারে।

ডু-হার্পার বলেন, "সে কারণেই কখনও এটি বেশ কার্যকর হতে দেখা যায়, আবার কখনও ফলাফল অতটা আশাব্যঞ্জক হয় না।"

সৌন্দর্যচর্চার ভবিষ্যৎ

ত্বক পরিচর্যার এমনকি সবচেয়ে অদ্ভুত পদ্ধতিগুলোর পেছনেও হয়তো কিছুটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকতে পারে।

তবে, বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের ত্বক পরিচর্যা থেরাপির বিকল্পগুলোতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ত্বকে কোলাজেনের যােগান বাড়াতে নতুন উপায় খোঁজার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সম্প্রতি এক গবেষণায় কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিশেষভাবে কোলাজেন প্রতিস্থাপনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

এটি ছয় মাসের ব্যবধানে কেবল ত্বকের গঠন, আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতার উন্নতিই ঘটায়নি, বরং রোগীদের লালার ডিএনএ টেস্ট অনুযায়ী তাদের জৈবিক বয়স গড়ে প্রায় দেড় বছর হ্রাস করেছে।

গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, অ্যামিনো অ্যাসিডের এই বিশেষ ভারসাম্যযুক্ত কোলাজেন সাপ্লিমেন্টগুলো কেবল ত্বক টানটান করতেই সাহায্য করে না, বরং স্বাস্থ্যের অন্যান্য দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ফলাফলগুলো এমন কিছু গবেষণার সাথে মিলে যায় যাতে দেখা যায় যে, শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ত্বকের একটি ভূমিকা রয়েছে।

তবে এই গবেষণাটি সবশেষে এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছে যে, এর সাথে জড়িত প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন।

এছাড়া নতুন কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি আমাদের ত্বকের মাইক্রোবায়োম নিয়ন্ত্রণের অভিনব উপায় নিয়ে গবেষণা করছে।

মাইক্রোবায়োম হলো আমাদের মুখে বাস করা অদৃশ্য অণুজীবের সমষ্টি, যা ত্বকের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশনে বড় ভূমিকা রাখে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ জিশনার বলছেন,আগামীদিনের সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে - প্রিবায়োটিকস, যা আমাদের ত্বকের মাইক্রোবায়োমে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে পুষ্টি জোগাতে তৈরি।

পোস্টবায়োটিকস, যা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া কিছু রাসায়নিক উপাদান।

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা রক্তে এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত কার্যকর পোস্টবায়োটিক তৈরি করতে সক্ষম।

গবেষণাগারে দেখা গেছে, এটি ত্বকের কোষের প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং কোলাজেনের ক্ষতি কমাতে পারে।

তবে, জিশনারের বলছেন, নতুন এসব স্কিনকেয়ার রুটিনকে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে, তাদের প্রমাণ করতে পারতে হবে যে, এগুলো গত কয়েক দশক ধরে বাজারে সহজলভ্য পরীক্ষিত পদ্ধতিগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর।

জিশনার বলেন, "প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, এসব সাময়িক জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি কি সত্যিই বাজারে থাকা প্রচলিত স্কিনকেয়ার পণ্যের চেয়ে ভালো ফল দেয়?"

ত্বকের আর্দ্রতা এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রতিবার একটি ফেসিয়ালে ৫০০ ডলার খরচ করার বদলে জিশনার বরং নিয়মিত একটি রুটিন মেনে চলাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

বরং, পরিবেশগত ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং রাতে ত্বককে আর্দ্র রাখা ও মেরামতের জন্য একটি রাত্রিকালীন ময়েশ্চারাইজার এবং রেটিনলের মতো কোলাজেন বাড়ানাে উপাদান ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।