আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
সুগন্ধি থেকে খচ্চর, বিশ্বনেতারা একে অপরকে কী উপহার দেন?
বুধবার সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান আহমেদ আল শারা একটি ছবি প্রকাশ করেন। এক্সে ছবিটি পোস্ট করে তিনি লিখেন, ছবিতে দেখা যাওয়া উপহারটি তাকে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উপহার হিসেবে তিনি "ট্রাম্প ফ্র্যাগর্যান্স" ব্র্যান্ডের "ভিক্টরি ৪৫-৪৭" নামের দু'টি পারফিউম পেয়েছেন।
আল শারা তার এক্স অ্যাকাউন্টে যে ছবিটি পোস্ট করেছেন, সেখানে পারফিউমের বোতল দু'টির সামনে হোয়াইট হাউজের সিল ও ট্রাম্পের স্বাক্ষরযুক্ত একটি কার্ড দেখা যায়।
কার্ডে লেখা ছিল, "আহমেদ, তোমাকে এই পারফিউম দেওয়ার সময় তোলা ছবিটি নিয়ে এখন সবাই কথা বলছে। আগেরটি শেষ হয়ে গেলে ব্যবহার করার জন্য আরও একটি পাঠালাম।"
ছবিটি পোস্ট করে আল শারা লিখেন, "কিছু সাক্ষাৎ শুধু স্মৃতি রেখে যায়, কিন্তু আমাদের সাক্ষাৎ রেখে গেছে বিশেষ এক সুগন্ধ।"
তিনি আরও লিখেন, "আমরা আশা করি, সেই বৈঠকের ইতিবাচক পরিবেশ সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।"
পারফিউমটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুরুষদের সংস্করণটিকে সীমিত সংস্করণের (লিমিটেড) একটি সুগন্ধি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এটি ট্রাম্পের "ঐতিহাসিক বিজয়" এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার হোয়াইট হাউজে ফেরা উপলক্ষে তৈরি।
বোতলের নকশায় ট্রাম্পের ছোট একটি সোনালি মূর্তিও রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, এর সুগন্ধ "গভীর ও পুরুষালি", যা "শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্য"-এর প্রতীক।
নারীদের সংস্করণটিকেও সীমিত সংস্করণের সুগন্ধি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ওয়েবসাইটের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ট্রাম্পের "ঐতিহাসিক বিজয়" থেকে অনুপ্রাণিত এবং "আত্মবিশ্বাস, সৌন্দর্য ও অদম্য সংকল্প"-এর প্রতিফলন।
"ভিক্টরি ৪৫-৪৭" নামটি মূলত ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউজে ফেরাকে বোঝায়। কারণ তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং এবার হয়েছেন ৪৭তম প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প নিজেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই পারফিউমের প্রচার করেছিলেন। তবে বিষয়টি সমালোচনারও জন্ম দেয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার ও পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন রাজনীতিক তখন অভিযোগ করেন যে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ট্রাম্প নিজের নাম ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্যের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারাকে এই পারফিউম উপহার দিতে এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল শাইবানির গায়েও কিছুটা স্প্রে করতে দেখা যাওয়ার পর এটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এমনকি পরে তিনি আরও দু'টি বোতল পাঠান।
"ভিক্টরি" নামের এই পারফিউম এবং রাজনৈতিক স্মারকের মতো নকশা করা বোতল আমাদের বিশ্বনেতাদের উপহার বিনিময়ের দীর্ঘ ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দেয়।
এ ধরনের উপহার অনেক সময় শুধু সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে ক্ষমতা, বন্ধুত্ব, ঘনিষ্ঠতা বা রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরা হয়।
এই প্রতিবেদনে বিশ্বনেতাদের উপহার বিনিময়ের নানা উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাতি, জিরাফ বা ওবেলিস্ক, আবার কোথাও স্টাফ করা সিংহ কিংবা নেতাদের ছবি খচিত কার্পেট।
ফ্রান্সের রাজার জন্য জিরাফ
বিশ্বনেতাদের মধ্যে উপহার বিনিময়কে সাধারণত সৌহার্দ্য প্রকাশ এবং দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়।
তবে বছরের পর বছর ধরে কিছু নেতা একে অপরকে বেশ অদ্ভুত সব উপহারও দিয়েছেন।
ইতিহাস বলছে, ১৭৮৫ সালে স্পেনের রাজা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনকে একটি খচ্চর (ঘোড়া ও গাধার মিলনে জন্ম নেওয়া প্রাণী) উপহার দিয়েছিলেন।
আবার, উনিশ শতকের শুরুতে মিশরের শাসক মুহাম্মদ আলী পাশা ব্রিটেনকে একটি ফারাও আমলের ওবেলিস্ক উপহার দেন। পরে তিনি ফ্রান্সকেও আরেকটি ওবেলিস্ক উপহার দেন।
"ওবেলিস্ক" হলো লম্বা, চারকোনা পাথরের স্তম্ভ, যার মাথা পিরামিডের মতো সূচালো হয়।
১৮২৭ সালে তিনি ফ্রান্সের রাজা চার্লস দশমকে একটি জিরাফ উপহার দিয়েছিলেন।
এরপর ১৮৬২ সালে সিয়ামের (আজকের থাইল্যান্ড) রাজা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনকে কয়েকটি হাতি উপহার দেন। এরপর ১৮৭৯ সালে মিশরের শাসক খেদিভ ইসমাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি ফারাও আমলের ওবেলিস্ক উপহার দেন।
এ ধরনের অদ্ভুত কূটনৈতিক উপহারের সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ দেখা গেছে বেলারুশ ও জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে। জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়া বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে একটি স্টাফ করা সিংহ উপহার দেন।
"স্টাফ করা সিংহ" মানে মৃত সিংহ, যার দেহ বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিশ্বনেতাদের অদ্ভুত উপহারের দীর্ঘ তালিকায় এই স্টাফ করা সিংহ একটি নতুন সংযোজন।
তবে সেই উপহারের জবাবে লুকাশেঙ্কো জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্টকে একটি ট্র্যাক্টর উপহার দেন।
এক মনে রাখার মতো উদাহরণ
১৯৫৯ সালে এই অদ্ভুত কূটনৈতিক উপহারের একটি স্মরণীয় উদাহরণ দেখা যায়। সে সময় সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারকে একটি লোহার বল উপহার দেন। এটি ছিল সেই সাত দশমিক পাঁচ সেন্টিমিটার ব্যাসের ধাতব বলের হুবহু প্রতিরূপ, যা সোভিয়েত ইউনিয় লুনা-২ মহাকাশযান দিয়ে চাঁদে পাঠিয়েছিল এবং যার ওপর হাতুড়ি ও কাস্তের (হাতুড়ি-কাস্তে কমিউনিজমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত) প্রতীক ছিল।
১৯৬৪ সালে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী আইনার গেরহার্ডসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর নিকিতা ক্রুশ্চেভ তাকে স্টার্জন মাছ উপহার দেন, যেখান থেকে ক্যাভিয়ার তৈরি করা হয়।
আর ১৯৭২ সালে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে একটি হাতি উপহার পান।
বিশ্বনেতাদের অদ্ভুত উপহার বিনিময়ের আরেকটি উদাহরণ দেখা যায় ১৯৯০ সালে। সে সময় ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকে আড়াই মিটার লম্বা এবং প্রায় ৯০ কেজি ওজনের একটি কোমোডো ড্রাগন উপহার দেন।
এরপর ১৯৯২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিইচি মিয়াজাওয়া জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকে এক সেট গলফ ক্লাব উপহার দেন। উপহারটি অদ্ভুত ছিল, কারণ ক্লাবগুলো ছিল খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি।
উপহারটির মূল্য ছিল আট হাজার ডলারের বেশি এবং এটিকে দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
১৯৯৭ সালে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট হায়দার আলিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে একটি কার্পেট উপহার দেন, যাতে ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ছবি ছিল। এটি একপ্রকার নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে তারা কখনোই ওই কার্পেট ব্যবহার করেননি।
২০০২ সালে ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত আরব জাতের একটি সাদা ঘোড়া উপহার দেন।
২০০৩ সালে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ৩০০ টন ভেড়ার মাংস উপহার দেন।
আর ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে টেক্সাসের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপহার দেন। এর মধ্যে ছিল কাউবয় বুট, চামড়ার জ্যাকেট এবং টেক্সাস প্রজাতন্ত্র আমলের একটি রুপার মুদ্রা।
টেক্সাস ১৮৩৬ সালে মেক্সিকো থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেওয়ার আগে ১০ বছর আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল।
এই উপহারগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
পুতিন ও বেরলুসকোনির কম্বল
২০০৮ সালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে একটি কাঁচের তৈরি ঐতিহ্যবাহী জার্মান বিয়ার মগ উপহার দেন। এটি জার্মানি ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
একই বছরে মেদভেদেভ বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জি পারভানোভকে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী "মাতরিয়োশকা" পুতুলের (কাঠের পুতুল) একটি সেট উপহার দেন।
এটিও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
২০০৮ সালেই চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও দক্ষিণ কোরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লি মিয়ং বাককে বিরল ও মূল্যবান একটি ক্যালিগ্রাফির স্ক্রল উপহার দেন।
এটি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক ছিল।
একই বছরে ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি বিরল ও মূল্যবান চিত্রকর্ম এবং একটি কম্বল উপহার দেন।
ওই কম্বলে পুতিন ও বেরলুসকোনির বড় ছবি ছিল, যা ইতালি ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
২০০৯ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তারো আসো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে একটি ঐতিহ্যবাহী জাপানি চা সেট উপহার দেন।
একই বছরে ওবামা ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে ২৫টি ডিভিডি উপহার দেন। তবে সেগুলো এমন ফরম্যাটের ছিল যা ব্রিটেনে চলতো না।
২০১০ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে সোনার গলফ ক্লাবের একটি সেট উপহার দেন। এটি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি এতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর গলফপ্রেমেরও প্রতিফলন ছিল।
২০১২ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বারাক ওবামাকে একটি পিং পং টেবিল ও র্যাকেট উপহার দেন।
প্রেসিডেন্টের 'উপহার' খেয়ে ফেলার গল্প
২০১৩ সালে মালি সরকার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদকে একটি উট উপহার দেয়।
তবে কোয়ারেন্টিন বিধিনিষেধের (স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নিয়ম) কারণে ওলাঁদ উটটিকে মালির একটি পরিবারের কাছে রেখে যান। পরে পরিবারটি উটটি খেয়ে ফেলে।
মৌরিতানিয়া সীমান্তের কাছে একটি শরণার্থী শিবিরে থাকা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, মালির কর্তৃপক্ষ তার উট চুরি করে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছে।
তিনি মামলা করার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে উটটি খেয়ে ফেলার পর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে শেষ পর্যন্ত সেই মামলার কী হয়েছিল, তা আর জানা যায়নি।
২০১২ সালে ডেভিড ক্যামেরন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এক হাজার ২০০ পাউন্ড মূল্যের একটি বারবিকিউ গ্রিল উপহার দেন। পরে দুই নেতা নিজেরাই সেটিতে রান্না করেছিলেন।
২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিরল ও দামী এক ধরনের চীনা চা উপহার দেন। এটি দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি চীনা সমাজে চা সংস্কৃতির গুরুত্বও তুলে ধরেছিল।
একই বছরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পোপ ফ্রান্সিসকে একটি মেনোরাহ উপহার দেন। মেনোরাহ হলো ইহুদিদের একটি ঐতিহ্যবাহী শমাদান বা প্রদীপদান। পাশাপাশি, তিনি তাকে স্পেনের "ইনকুইজিশন" বা ধর্মীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে একটি বইও দেন।
ওই বছর ভ্লাদিমির পুতিন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলকে একটি চিত্রকর্ম এবং ১৮৯৪ সালে স্বাক্ষরিত রুশ-জার্মান বাণিজ্যসংক্রান্ত একটি দলিল উপহার দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হে ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ঐতিহ্যবাহী কোরীয় বাদ্যযন্ত্রের একটি সেট উপহার দেন।
এটি শান্তি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে, এই উপহারকে দুই কোরিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হয়েছিল।
একই বছরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান টুপি "সোমব্রেরো" উপহার দেন।
এটি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
আর ২০১৩ সালে ভ্যাটিকান সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি পোপ ফ্রান্সিসকে একটি বিরল ও মূল্যবান পার্সিয়ান কার্পেট উপহার দেন।
২০১৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হে'কে দু'টি বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘোড়া উপহার দেন।
এটি দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
২০১৫ সালে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে একটি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি উপহার দেন। ছবিটিতে ছোটবেলার ওবামাকে তার বাবা হুসেইন ওবামার সঙ্গে দেখা যায়।
২০১৬ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট ওবামাকে দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে একটি বিরল তুর্কি কার্পেট উপহার দেন।
পরের পছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালে এরদোয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি ঐতিহ্যবাহী তুর্কি তলোয়ার উপহার দেন।
এটিকেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল।
উপহারের তালিকায় আছে পান্ডাও
২০১৮ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁকে দু'টি জায়ান্ট পান্ডা উপহার দেন। এটি দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে "রকেট ম্যান" নামের একটি গানের সিডি উপহার দেন।
ট্রাম্প প্রায়ই কিম জং উনকে "রকেট ম্যান" বলে ডাকেন। এর মাধ্যমে তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার দিকে ইঙ্গিত করেন।
২০২০ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে হাতে বোনা একটি সিল্কের কার্পেট এবং চায়ের কাপের সেট উপহার দেন।
এগুলো বিশ্বনেতাদের মধ্যে বিনিময় হওয়া অসংখ্য অদ্ভুত ও প্রতীকী উপহারের কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।
এসব উপহার শুধু সৌজন্যের বিষয়ই নয়। এগুলো আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে এগুলো বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরে।